জেনারেটর

বৈদ্যুতিক জেনারেটর কিঃ

জেনারেটর শব্দটি ইংরেজি শব্দ জেনারেট থেকে এসেছে, জেনারেট অর্থ উৎপন্ন করা এবং এটি পাওয়ার বা শক্তি উৎপন্ন করে।কিন্তু বৈদ্যুতিক জেনারেটর এমনএক ধরণের যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রুপান্তরিত করে। অবশ্য ডায়নামো বলতে সাধারণ্যে কেবল জেনারেটরকেই বোঝানো হয়। প্রথম নির্মিত জেনারেটরকে ডায়নামো নামে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। আর এ রুপান্তরের কাজের জন্য প্রয়োজন একটি চুম্বক ক্ষেত্র এবং আরমেচার,যার উপরিভাগে তারের কয়েল বসানো থাকে।

জেনারেটরের আবিষ্কারকঃ

জেনারেটর আবিষ্কার করেন ইংল্যন্ডে জন্মগ্রহনকারি বিজ্ঞানী ফ্যারাড।যার জন্ম হয়েছিল ১৭৯১ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর।

আবিষ্কারঃ

২১ বছর বয়সে একদিন হঠাৎ করে তিনি স্যারহামফ্রের সাথে কাজ করার সুযোগ পেলেন।হামফ্রে তাকে ল্যাবরেটরির বোতল ধোয়ার কাজ দিলেন।কাজের ফাঁকেই তিনি হামফ্রের গবেষণা মনযোগসহকারে দেখতেন।দেখা, শেখা আর নিজের প্রচেষ্টা।এর পথ ধরে তিনি মানব জাতির উন্নয়নে রাখেন মহামূল্যবান অবদান।

 

তার যুগান্তকারী আবিস্কারের মধ্যেচৌম্বকের সাথে তড়িতের সম্পর্ক।এর  মাধ্যমেই শক্তিরএকবিশাল রূপান্তর মানবজাতির হাতে আসে।

১৭৩৩ সালে ডাচবিজ্ঞানী পিটারভ্যান স্থিরতড়িৎ ধরে রাখার জন্য লেডেনজারনামে একপ্রকার যন্ত্র তৈরি করে ন। ১৭৪৮ সলে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (১৭০৬-১৭৯০) পিটার ভ্যানের কয়েকটা লেডেনজার সেল একত্র  করে তৈরি করেন তড়িৎ ধারক  বাব্যাটারি ।তিনি এই ব্যাটারি কেচার্জ করার জন্য একপ্রকার যন্ত্র ব্যবহার করেন। সেটাই ছিল সম্ভবত প্রথম বিদ্যু ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে স্যার হামফ্রে ডেভিরল্যা বেকাজকরার সময় ফ্যারাড লক্ষ্য করেন একটা তারের কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে চুম্বককে আনা-নেওয়া করলে ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়।

এইআবিষ্কারকেফ্যারাডেরতড়িচ্চৌম্বকনীতিবলাহয়।এইনীতিরউপরভিত্তিকরেফ্যারাডেইপ্রথমতড়িচ্চৌম্বকজেনারেটরতৈরিকরেনযাচলতড়িৎউৎপাদনকরতেসক্ষমহয়।তারজেনারেটরবাডায়নামোটিকে “ফ্যারাডেডিস্ক” বলাহয়।অশ্বক্ষুরাকৃতিরএকটিচুম্বকেরদুইমেরুরমাঝখানেস্থাপিতকপারচাকতিরঘূর্ণনব্যবহারকরেএইযন্ত্রেবিদ্যুৎউৎপাদনকরাহয়।

প্রকারভেদঃ

  • এসি জেনারেটর
  • ডিসি জেনারেটর

ডিসি জেনারেটর আবার দুই প্রকার যথাঃ

  • সেপারেটলি এক্সাইটেড জেনারেটর।
  • সেলফ এক্সাইটেড জেনারেটর।

 

সেলফ এক্সাইটেড জেনারেটর আবার তিন প্রকার যথাঃ

  • শান্ট জেনারেটর।
  • সিরিজ জেনারেটর।
  • কম্পাউন্ড জেনারেটর।

 

 

কম্পাউন্ড জেনারেটর আবার দুই প্রকার যথাঃ

  • শর্ট শান্ট কম্পাউন্ড জেনারেটর।
  • লং শান্ট কম্পানারেটর।

গঠনঃ

এতে একটি ক্ষেত্রচুম্বক থাকে। চুম্বকের মধ্যবর্তী স্থানে একটি কাচা লোহার পাতের উপর একটি তারের আয়তকারে কুণ্ডলী থাকে। কাচা লোহার পাতটিকে আর্মেচার বলে। আর্মেচারটিকে চুম্বকের দুই মেরুর  মধ্যবর্তী স্থানে যান্ত্রিক উপায়ে সম দ্রুতিতে ঘুরানো হয়। আয়তকার কুণ্ডলীর দুই প্রান্ত দুইটি স্প্রিং এর সাথে সংযুক্ত থাকে। স্প্রিং দুইটি আর্মেচারের একই অক্ষ বরাবর ঘুরতে পারে। দুইটি কার্বন নির্মিত ব্রাশ এমনভাবে স্থাপন করা হয় যেন তারা যখন আর্মেচার ঘুরতে থাকে তখন স্প্রিং দুইটিকে স্পর্শ করে থাকে। ব্রাস দুইটির সাথে বহিবর্তনীর জ রোধ সংযুক্ত থাকে।

কার্যপ্রণালীঃ

যখন আর্মেচারটিকে ঘুরানো হয় তখন আর্মেচার কুণ্ডলী চৌম্বকক্ষেত্রের বলরেখাগুলোকে ছেদ করে এবং তাড়িতচৌম্বক আবেশের নিয়মানুযায়ী কুণ্ডলীতে তড়িৎ চালক শক্তি আবিষ্ট হয়। এখন কুণ্ডলীটির দুই প্রান্ত বহিবর্তনীর সাথে সংযুক্ত থাকায় বর্তনীতে পর্যাবৃত্ত  তড়িৎপ্রবাহের উৎপত্তি হয়। আবিস্ট তড়িৎপ্রবাহের মান প্রধানত চৌম্বকক্ষেত্রের প্রাবল্য ও ঘূর্ণন বেগের উপর নির্ভর করে। কুণ্ডলীর একবার ঘূর্ণনের মধ্যে আবিস্ট তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখও একবার পরিবর্তিত হয়। এভাবে যান্ত্রিক শক্তি থেকে পরিবর্তী প্রবাহ উৎপন্ন হয়।

জেনারেটরের বিভিন্ন অংশের পরিচিতি ও বর্ণনাঃ

সকল ধরনের ডিসি জেনারেটর দুটি সার্কিট দ্বারা গঠিত,যথা-

  • ম্যাগনেটিক সার্কিট
  • ইলেকট্রিক সার্কিট

ম্যাগনেটিক সারকিটঃ নিম্নলিখিত অংশগুলি দ্বারা এই সার্কিট গঠিত হয়, যথাঃ

  1. ইয়োক বা ফ্রেমঃ জেনারেটরের বাইরের আবরন বা স্তরকে ইয়ক বা ফ্রেম বলে।ছোট জেনারেটর এর ক্ষেত্রে এই ইয়কে কাস্ট আয়রন ব্যবহার করা হয় আর বড় জেনাটরের ক্ষেত্রে স্টিল ব্যবহার করা হয়।
  • পোল কোরঃএটি তামার তার দ্বারা তৈরী যা প্রতিটি পোলে সুন্দর ভাবে সাজানো থাকে।
  • আরমেচার কোরঃ জেনারেটরের ভিতরে যে অংশটুকু অবিরাম ঘুরে,তাকেই আর্মেচার বলে। এটা দেখতে অনেকটা সিলিন্ডার এর মত যাতে তামার কন্ডাক্টর প্যাঁচানো থাকে।
  • এয়ার গ্যাপঃ পোল এবং আরমেচারের মধ্যবর্তী ফাকা জায়গা কে এয়ার গ্যাপ বলে।ইলেকট্রিক সার্কিটঃ

     

    1. ফীল্ড কয়েলঃসুপার এনামেল কপার ওয়্যারের কয়েলের দ্বি-স্তর কাপড়ের আবরন দিয়ে ফিল্ড ওয়াইন্ডিং করা হয়।
    2. আরমেচার ওয়াইন্ডিংঃএটা হলো আর্মেচার স্লটের বাঁকি অংশ যা কন্ডাক্টর দ্বারা প্যাঁচানো থাকে।
    3. কম্যুটেটরঃএটা দেখতে গোলাকার বিয়ারিং এর মত যার মাধ্যমে এতে কারেন্ট এসে জমা হয়ে থাকে পরবর্তী ধাপে যাবার জন্য।
    4. ব্রাশঃএটা কার্বন গ্রাফাইটের তৈরি। এটা ব্রাশ কন্টাক্ট এর জন্য ব্যবহার করা হয় যা আউটপুটে সাপ্লাই দিয়ে থাকে।