এসি কারেন্টঃ

Alternaring Current (A.C) : সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক উভয়টির পরিবর্তন হয় তাকে এ.সি কারেন্ট বলে।

এসি কারেন্ট বা পরিবর্তী তড়িৎ এর প্রবাহের দিক একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর পর বিপরীতগামী হয়। পরিবর্তি প্রবাহের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়কালের অর্ধেক সময় তড়িৎ যেদিকে প্রবাহিত হয় বাকি অর্ধেক সময় ঠিক তার বিপরিত দিকে প্রবাহিত হয়।

বাসাবাড়িতে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তড়িৎ শক্তি পরিবহনের জন্য এসি কারেন্ট বহুল ব্যবহৃত হয়। কারন এই ধরনের তড়িৎ শক্তি সহজে দূর দূরান্তে প্রেরন করা যায় এবং এতে বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় কম হয়। এক্ষেত্রে প্রবাহিত তড়িৎ শক্তির রুপ সাধারনত সাইন ওয়েভ হয়ে থাকে। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ধরনের পরিবর্তী প্রবাহও ব্যবহার করা হয়।

নিচে এসি কারেন্ট এর সাইন ওয়েভ এর গ্রাফ দেখানো হলঃ

ডিসি কারেন্টঃ

Direct Current (D.C) : সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক কোনোটিই পরিবর্তিত হয় না তাকে ডি.সি কারেন্ট বলে।

ডিসি কারেন্ট সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে না। তাই একে একমুখী তড়িৎ প্রবাহ বলে।নিচের গ্রাফটি দেখুনঃ

নিচে এসি ও ডিসি কারেন্ট এর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলঃ

১। উৎসঃ Source

এসি সার্কিটঃ এসি জেনারেটর উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ডিসি সার্কিটঃ ডিসি সার্কিটে উৎস হিসেবে ব্যটারী বা ডিসি জেনারেটর ব্যবহৃত হয়।

২। উপাদানঃ Parameters

এসি সার্কিটঃ এসি সার্কিটে প্যারামিটার হিসেবে রেজিস্ট্যান্স, ইন্ডাকট্যান্স ও ক্যাপাসিট্যান্স ব্যবহার করা হয়।

ডিসি সার্কিটঃ ডিসি সার্কিটে প্যারামিটার হিসেবে শুধুমাত্র রোধ ব্যবহার করা হয়।

৩। সরবরাহ ফ্রিকুংয়েন্সিঃ

এসি সার্কিটঃ ফ্রিকুয়েন্সির প্রভাবে ইন্ডাকট্যান্স ও ক্যাপাসিট্যান্স এর মান বাড়ে ও কমে।

ডিসি সার্কিটঃ ফ্রিকুয়েন্সির কোন প্রভাব নেই।

৪। যোগ-বিয়োগঃ Calculation

এসি সার্কিটঃ ভোল্টেজ ও কারেন্টের মধ্যে 90 ডিগ্রি ফেজ পার্থক্য থাকে বলে ভোল্টেজ ও কারেন্টসমূহ গানিতিক ভাবে যোগ বিয়োগের পরিবর্তে ভেক্টর যোগ বা বিয়োগ করতে হয়।

ডিসি সার্কিটঃ ভোল্টেজ ও কারেন্ট সমূহকে গানিতিকভাবে যোগ বিয়োগ করা যায়।

৫। রূপান্তরঃ

এসি কারেন্টঃ রেকটিফায়ারের সাহায্যে এসি কারেন্টকে ডিসি কারেন্টে পরিবর্তন করা যায়।

ডিসি কারেন্টঃ ডিসি কারেন্টকে সহজে এসি কারেন্টে রূপান্তর করা যায় না। গেলেও কষ্টসাধ্য ও ব্যায়বহুল।

৬। সরবরাহ হ্রাস বৃদ্ধিঃ

এসি কারেন্টঃ এসি কারেন্টকে ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে সরবরাহ ভোল্টেজকে কমানো বা বাড়ানো যায়।

ডিসি কারেন্টঃ ডিসি কারেন্টের সরবরাহ ভোল্টেজকে কমানো বা বাড়ানো যায় না।

৭। রেগুলেশনঃ

এসি কারেন্টঃ এসি কারেন্টে ভোল্টেজ ড্রপ বেশি হয় বিধায় রেগুলেশন ভাল হয় না।

ডিসি কারেন্টঃ ডিসি কারেন্টে ভোল্টেজ ড্রপ কম হয় বিধায় রেগুলেশন ভাল।

৮। উৎপাদনঃ

এসি কারেন্টঃ সর্বোচ্চ উৎপাদিত ভোল্টেজ 16500 ভোল্ট।

ডিসি কারেন্টঃ সর্বোচ্চ উৎপদিত ভোল্টেজ 1500 ভোল্ট

এখন আশা করি আপনারা এসি কারেন্ট ও ডিসি কারেন্ট এর পার্থক্যটা বুঝতে পেরেছেন। এসি কারেন্টের কিছু বড় অসুবিধা হলঃ

১। এসি কারেন্ট এর সাহায্যে ব্যাটারী চার্জ করা যায় না।

২। ইলেকট্রোপ্লেটিং এর কাজে এসি কারেন্ট ব্যবহার করা যায় না।

৩। স্ত্রিন ইফেক্ট সমস্যা হয়। ইত্যাদি।

তবে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতিতে সাধারনত ডিসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে ব্যাটারী ব্যবহার করা হয় কিংবা ট্রান্সফর্মার ও রেকটিফায়ারের  সাহায্যে এসি কে ডিসি তে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে আমি ট্রান্সফর্মার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আজ এ পর্যন্তই। আগামী টিউনে আমরা দেখব যে কিভাবে ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করে এসি কারেন্ট কে ডিসিতে রূপান্তর করা যায়। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে টিউমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমি  ইলেকট্রনিক্স এর উপর একজন ছাত্র। আমি সাধ্যমত সকল বিষয় সহজ ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব। ভাল থাকেবেন সবাই। আসসালামু-আলাইকুম।