পি ডব্লিউ এম (পালস ওয়াইডথ মডুলেশন)

পি ডব্লিউ এম কে বলা হয় পালস ওয়াইডথ মডুলেশন। পি ডব্লিউ এম এমন একটি মডুলেশন কৌশল যার মাধ্যমে একটা পালস সিগন্যালের পালস ওয়াইডথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পি ডব্লিউ এম ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরণের এনালগ সার্কিটকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যেমন ডিসি মটরের স্পিড কন্ট্রোল, লাইটের ব্রাইটনেস কন্ট্রোল এবং এ ধরণের বিভিন্ন কাজে।

 

পি ডব্লিউ এম বা পালস ওয়াইডথ মডুলেশন কিভাবে কাজ করে?

ছবিতে ৫ টি PWM সিগন্যাল দেখতে পাচ্ছি । এখানে পাশাপাশি দুটি সবুজ দাগের মধ্যবর্তী অংশ টাইম প্রিয়োড বা এক সাইকেল নির্দেশ করে। অর্থাৎ PWM সিগন্যালের একটি পূর্ণ সাইকেল তৈরি করতে যে সময় প্রয়োজন হয় তাই হচ্ছে টাইম প্রিয়োড ।

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ টার্ম হচ্ছে ফ্রিকোয়েন্সি। ১ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে যতগুলো পূর্ণ সাইকেল সম্পন্ন হয় তাই হচ্ছে ফ্রিকোয়েন্সি।

এবার ডিউটি সাইকেল বিষয়ে কিছু কথা বলা যাক। PWM সিগন্যালের একটা পূর্ণ সাইকেল (পাশাপাশি দুটি সবুজ দাগের মধ্যবর্তী অংশ) এর শতকরা যতটুকু অংশ লজিক হাই থাকে তাই হচ্ছে ঐ PWM সিগন্যালের ডিউটি সাইকেল।

  • ছবিতে দেখানো ১ম সিগন্যালটির ডিউটি সাইকেল 0% । তাই এতে কোন লজিক হাই লেভেল নেই। এখানে লজিক হাই বলকে ভোল্টেজের একটা নির্দিষ্ট DC লেভেলকে নির্দেশ করে। সাধারণত এই মান DC 5V হয়ে থাকে, এবং ছবিতেও তাই দেখানো হয়েছে। আর লজিক লো বলতে সাধারণত DC 0V কে নির্দেশ করে।
  • ছবিতে দেখানো ২য় সিগন্যালটির ডিউটি সাইকেল 25% । অর্থাৎ একটা পূর্ণ সাইকেলের চার ভাগের একভাগ বা 25% সময় সিগন্যালটি লজিক হাই রয়েছে।
  • ছবিতে দেখানো ৩য় সিগন্যালটির ডিউটি সাইকেল 50% । অর্থাৎ একটা পূর্ণ সাইকেলের অর্ধেক বা 50% সময় সিগন্যালটি লজিক হাই রয়েছে।
    • ছবিতে দেখানো ৪র্থ সিগন্যালটির ডিউটি সাইকেল 75% । অর্থাৎ একটা পূর্ণ সাইকেলের চার ভাগের তিনভাগ বা 75% সময় সিগন্যালটি লজিক হাই রয়েছে।
    • ছবিতে দেখানো ৫ম সিগন্যালটির ডিউটি সাইকেল 100% । অর্থাৎ এটা একটা পূর্ণ DC ভোল্টেজ লেভেলকে নির্দেশ করে।

    PWM সিগন্যালের এই ডিউটি সাইকেল পরিবর্তন করে আউটপুট ভোল্টেজের এভারেজ মান পরিবর্তন করা যায়। আর এই লজিকটি ব্যবহার করেই PWM এর মাধ্যমে বিভিন্ন এনালগ ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে শুধুমাত্র সিগন্যালের ডিউটি সাইকেল পরিবর্তন করেই আমরা আউটপুট ভোল্টেজের এভারেজ মান পরিবর্তন করতে পারছি।