• কারেন্ট কি
  • কারেন্টের প্রতীক ও একক
  • কারেন্টের প্রকারভেদ
  • কারেন্টের আবিষ্কারক
  • আবিষ্কারের কাহিনি
  • এসি কারেন্ট ডিসি কারেন্ট এর মাঝে পার্থক্য

কারেন্ট কি???

পদার্থের মধ্যে অবস্থানকৃত মুক্ত ইলেকষ্ট্রন সমূহ নিদিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকে কারেন্ট বলে ।

অথবা,

একটি পরিবাহী পদার্থের ভিতর দিয়ে চার্জ এর গতিকে কারেন্ট বলা হয় ।

 

কারেন্টের প্রতীক ও এককঃ

 

কারেন্টের প্রতীক হলো = “ I ” .

 

কারেন্টের একক হলো = Ampere (A) .

 

পরিমাপের যন্ত্র হলো = Ampere meter বা Ammeter

কারেন্টের প্রকারভেদ

 

কারেন্ট প্রধানত তিন প্রকার যথা-

১) এসি কারেন্ট

২) ডিসি কারেন্ট

৩) এডি কারেন্ট

এসি কারেন্টঃ

“এসি (AC)”- পূর্ন অর্থ হলো অল্টারনেটিং কারেন্ট (Alternating Current) । অর্থাৎ সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান পরিবর্তীত হয় তাকে এসি কারেন্ট বলা হয় । বাসা বাড়ীতে ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে যে বিদ্যুৎসরবরাহ করা হয় তা হচ্ছে এসি কারেন্ট ।

ডিসি কারেন্টঃ

ডিসি কারেন্ট হলো ডাইরেক্ট কারেন্ট বা অপরিবর্তনশীল কারেন্ট। সুতারাং বুঝায় যাচ্ছে এই কারেন্টের মান পরিবর্তিত হবে না। ডিসি কারেন্টের দুটি দিক থাকে যার একটি হচ্ছে পজেটিভ ও

অন্যটি হচ্ছে নেগেটিভ।তাহলে বলা যায়, “কারেন্ট যা শুধুমাত্র  একটি ডিরেকহিশনে প্রবাত হয় তাই ডিসিকারেন্ট

এডি কারেন্টঃ

তামার তার দিয়ে তৈরী কয়েল থেকেই মুলত এডি কারেন্ট(Eddy Current) উৎপন্ন হয়ে থাকে । যেমন : ট্রান্সফরর্মার , মটর ইত্যাদি ।

এসি কারেন্ট যখন কোন কয়েলের ভিতর দিয়ে চলাচল করে, তখন এটি কয়েলের ভিতর এবং কয়েলের চারপাশে ম্যাগনেটিক ফিল্ড (magnetic fields) তৈরি করে । এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড মূলত তারের চারিদিকে ফিতার মত জড়িয়ে থাকে । পরবর্তীতে এই ফিতার মত অসংখ্যক ম্যাগনেটিক ফিল্ড গুলো একত্র হয়ে একটি বড় লুপের সৃষ্টি করে

কারেন্টের আবিষ্কারকঃ 

কারেন্টের আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা এবং পদার্থবিদ, ইঞ্জিনিয়ার – নিকোলা টেসলা । এই মহামানবের জন্ম ১০ জুলাই ১৮৫৬ সালে তৎকালীন সার্বিয়ায় (বর্তমান ক্রোয়েশিয়ায়) স্মিলিজান শহরে। পিতা মিলুতিন টেসলা একজন ধর্মযাজক এবং মা ডুকা টেসলা ছিলেন একজন উদ্ভাবক। নিকোলা টেসলা যখন পৃথিবীতে আসেন সেদিন নাকি প্রচন্ড ব্জ্রপাত  ও ঝড় হচ্ছিল। দাই বলেছিলেন, এই ছেলে অন্ধকার নিয়ে এলো কিন্তু নিকোলা টেসলার মা বলেছিলেন- আমার এই সন্তান পৃথিবীতে আলো নিয়ে আসবে। মায়ের কথা তিনি সত্য প্রমাণ করে সারা বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন।

আবিষ্কারের কাহিনিঃ

নিকোলা টেসলা সব সময় ছিলেন কর্মঠ এবং একগুঁয়ে। কলেজ জীবন শুরু করেন অস্ট্রিয়া পলিটেকনিক এ। প্রথম বছর তিনি ছিলেন সেরা ছাত্র, এমনকি কলেজের ডিন তার বাবাকে চিঠিতে অভিবাদন জানান। কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে গিয়ে গোল বাঁধান প্রফেসরের সাথে আর তৃতীয় বর্ষে মজেন জুয়ার আসরে। ফলাফল ৩য় বর্ষে গিয়ে ড্রপ আউট। কর্মঠ ও প্রতিভাবান এই মানুষটির জন্য কলেজ ছেড়ে দেওয়া সমস্যা হয়নি কোনো।

পড়াশোনা এক পাশে রেখে মন দিয়েছিলেন চাকরিতে। ১৮৮১ সালে বুদাপেস্ট টেলিফোন এক্সচেঞ্জে চাকরি নেন টেসলা।১৮৮৪ সালে নিকোলা টেসলা আমেরিকা পাড়ি জমান এডিসনের চিঠি আর ৫০ সেন্ট পকেটে নিয়ে। সেখানে নিকোলা টেসলা কাজ করতে শুরু করেন সরাসরি এডিসনের সাথে থেকে। এডিসন আবিষ্কৃত ডিসি মোটর নিয়ে কাজ করাই ছিল টেসলার মূল কাজ।

ডিসি মোটরের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে ডাইরেক্ট কারেন্ট (ডিসি) তৈরি যেমন ব্যয়বহুল তেমনি নিয়ন্ত্রণও বেশ ঝামেলার। ডিসি কারেন্টের বিদ্যুতের জন্য কিছু দূর পর পর স্টেশন তৈরি করার দরকার পড়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য। এডিসন এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেন টেসলার উপর। কাজের বিনিময় হিসাবে এডিসন ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেবার প্রতিশ্রুতিও দেন নিকোলা টেসলাকে। ৬ মাসের মাথায় টেসলা নিয়ে আসেন তার যুগান্তকারী আবিষ্কার এসি মোটর এবং এসি কারেন্ট প্রযুক্তি। পারিশ্রমিক দেবার পরিবর্তে এডিসন তাকে বলেছিলেন, “তুমি আমেরিকান ব্যঙ্গ ধরতে পারোনি টেসলা!” ১০ ডলার থেকে ১৮ ডলার অর্থাৎ মাত্র ৮ ডলার বেতন বাড়াতে রাজী হন এডিসন। রাগে অপমানে চাকরি ছাড়েন টেসলা।এডিসনের চাকরি ছেড়ে জেদের বশে ১৮৮৫ সালে শুরু করলেন তার নিজের কোম্পানি “টেসলা ইলেকট্রিক লাইট এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং”। প্রথমে উদ্যোক্তারা সাহস পায়নি নতুন জায়গায় কাজ করতে; ফলাফল সর্বহারা হলেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ইলেকট্রিকাল কোম্পানিতে ২ ডলার বেতনে রিপেয়ারম্যানের চাকরি শুরু করেন! অবশেষে ১৮৮৬ সালে আলফ্রেড এস ব্রাউনের সহায়তায় ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কোম্পানির সহায়তায় নতুন করে কাজ শুরু করেন।যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহ্যাটন শহরে টেসলা গড়ে তোলেন তার নিজের ল্যাবরেটরি। সেখান থেকেই ১৮৮৭ সালে নিজের ডিজাইন করা ইন্ডাকশন মোটর তৈরি করেন। আর এই ইন্ডাকশন মোটরের মাধ্যমে ইউরোপের চেহারা বদলে যায়। এই ইন্ডাকশন মোটর দিয়ে টেসলা আকাশের নীল বজ্রকে নিয়ে আসেন ঘরে ঘরে কারেন্ট রূপে। ১৮৯৫ সালে ডিন এডমিন্সের সহায়তায় নিকোলা টেসলা কোম্পানি নতুন করে গড়ে তোলা হয়।