এসিকারেন্ট  ডিসি কারেন্ট এর মাঝে  প্রার্থক্য :

১) উৎস বা Source:

এসি সার্কিটে জেনারেটর উৎস হিসেবে ব্যবহিত হয়।

ডিসি সার্কিটে উৎস হিসেবে ব্যাটারি বা ডিসি জেনারেটর ব্যবহিত হয়।

২) উপাদান:

এসি সার্কিটে উপাদান হিসেবে রেজিস্ট্যান্স, ইন্ডাকট্যান্স ও ক্যাপাসিট্যান্স ব্যবহার হয়।

ডিসি সার্কিটে উপাদান হিসেবে শুধুমাত্র রেজিস্ট্যান্স ব্যবহার

৩) ফ্রিকুয়েন্সির প্রভাব:

এসি সার্কিটে ফ্রিকুয়েন্সির প্রভাবে ইন্ডাকট্যান্স ও ক্যাপাসিট্যান্স এর মান কমে ও বাড়ে।

ডিসি সার্কিটে ফ্রিকুয়েন্সির কোন প্রভাব নেই।

৪) যোগ-বিয়োগ হিসাব:

এসি সার্কিটে ভোল্টেজ ও কারেন্টের মধ্যে ৯০ ডিগ্রী ফেজ এঙ্গেল বা ফেজ প্রার্থক্য থাকে যার ফলে ভোল্টেজ ও কারেন্টেকে গাণিতিকভাবে যোগ-বিয়োগ পরিবর্তে ভেক্টর যোগ-বিয়োগ করতে হয়। ডিসি সার্কিটে ভোল্টেজ ও কারেন্টকে গাণিতিকভাবে যোগ-বিয়োগ করা যায়।

৫) রূপান্তর:

রেকটিফায়ারের সাহায্যে এসি কারেন্টকে ডিসি কারেন্টে রূপান্তর করা যায়। ডিসি কারেন্টকে সহজে এসি কারেন্টে রূপান্তরিত করা যায় না আর করা গেলেও অনেক কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হয়ে থাকে। ডিসি কারেন্টকে সহজে এসি কারেন্টে রূপান্তরিত করা যায় না আর করা গেলেও অনেক কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হয়ে থাকে।

৬) সাপ্লাই কম-বেশি:

এসি কারেন্টকে ট্রান্সফরমারের সাহায্যে সরবরাহ ভোল্টজ কমানো বা বাড়ানো যায়।

ডিসি কারেন্টের সরবরাহ ভোল্টেজকে কমানো বা বাড়ানো যায় না।

৭) রেগুলেশন:

এসি কারেন্টে রেগুলেশন ভালো নয় কারন এর ভোল্টেজ ড্রপ অনেক বেশি। ডিসি কারেন্টে রেগুলেশন ভালো কারন এর ভোল্টেজ ড্রপ কম।

8) উৎপাদন:

এসি কারেন্ট সর্বোচ্চ উৎপাদিত হয় ১৬,৫০০ ভোল্ট।

ডিসি কারেন্টে সর্বোচ্চ উৎপাদিত হয় ১,৫০০ ভোল্ট।

পরিচিতিঃ

কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে পরিবর্তনশীল কারেন্ট প্রবাহের কারণে উৎপন্ন চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রবল্য পরিবর্তনের ফলে ঐ পরিবাহীতে ভোল্টেজ আবিষ্ট হওয়ার সামর্থ্যকে ইন্ডাক্ট্যান্স বলা হয়। এবং উক্ত পরিবাহীকে ইন্ডাক্টর বলা হয়। ইন্ডাক্টর একটি প্যাসিভ ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইস যা ইন্ডাক্ট্যান্স তৈরি করতে পারে। বাস্তবে ইহা একটি পরিবাহী তাড়ের কুন্ডলী।

একে ইংরেজিতে  L  দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ইন্ডাক্টর ও ইন্ডাক্ট্যান্সঃ

ইন্ডাক্টর একটি প্যাসিভ ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইস এবং ঐ ডিভাইসের বৈশিষ্ট বা গুন, যে গুনের কারণে পরিবাহীতে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয়।

 

প্রতীকঃ ইন্ডাক্ট্যান্সকে ইংরেজিতে L অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা । এর প্রতিক নিচে দেওয়া হলঃ

এককঃ ইন্ডাক্টরের S.I. এক হেনরী একে ইংরেজি H অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

মূলনীতি ও কার্যপ্রণালীঃ

ক্ষেত্র-১: যখন কোন ইন্ডাক্টরের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ শুরু হয় তখন তড়িৎ প্রবাহের কারণে তাৎক্ষণিক একটি চুম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় যার বলরেখা গুলো ইন্ডাক্টরের প্রতি প্যাচের সাথে জড়িত থাকে। ইন্ডাক্টর নিজস্ব চুম্বক বলরেখার সাথে জড়িত হওয়ার কারণে তড়িৎ প্রবাহ শুরু হবার মুহূর্তে ইন্ডাক্টরে একটি বিপরীতমুখী ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় যা ইন্ডাক্টরে তড়িৎ প্রনাহমাত্রা বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে।

ক্ষেত্র: ইন্ডাক্টরের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করলে তড়িৎ প্রবাহের কারণে সৃষ্ট চুম্বক ক্ষেত্রটি হঠাৎ অপসারিত হয় এবং বলরেখাগুলো হারিয়ে যায়। ফলে ইন্ডাক্টরে বিপরীতমুখী ভোল্টেজ হারিয়ে যায় এবং ক্ষণস্থায়ী সমমূখী ভোল্টেজ বৃদ্ধি পায়। একারণে ইন্ডাক্টরে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হতে বিলম্ব হয়।

ক্ষেত্র-৩: অনুরূপ ভাবে ইন্ডাক্টরে তড়িৎ প্রবাহ চালু থাকাকালীন যদি প্রবাহ মাত্রা পরিবর্তন করানো হয় তাহলে ইন্ডাক্টরের প্রতি প্যাঁচের সাথে জড়িত  চুম্বক বলরেখার প্রবল্যের পরিবর্তন হয় এবং ইন্ডাক্টরে একটি বিপরীতমুখী ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় যা তড়িৎ প্রবাহের পরিবর্তনে বাধা প্রদান করে। উপরোক্ত ক্ষেত্রসমূহে উৎপন্ন ভোল্টেজকে বল হয় সব-আবেশিত ভোল্টেজ।

খাটি ইন্ডাক্টরের বৈশিষ্টঃ

১।খাটি ইন্ডাক্টরে রেজিস্ট্যান্স শূন্য হয়।

২।খাটি ইন্ডাক্টরে পাওয়ার অপচয় শূন্য।

৩।ইন্ডাক্টর কারেন্টের পরিবির্তঙ্কে বাঁধা দেয়।

৪।ইহা এনার্জি সঞ্চয় করে রাখতে পারে।

৫।ভোল্টেজ ও কারেন্টের মধ্যে দশা পার্থক্য ৯০ ডিগ্রী।

৬।খাটি ইন্ডাক্টর ডিসি প্রবাহকে বাঁধা দেয় না।

৭।দিকপরিবর্তী প্রবাহের কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পেলে ইন্ডাক্টরের বাঁধা বৃদ্ধি পায়।

প্রকারভেদঃ বর্তমানে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে ইন্ডাক্টরের প্রয়োগ ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রুপে ইন্ডাক্টর ডিজাইন হচ্ছে তাই ইন্ডাক্টরের প্রকৃত প্রকারভেদ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। তবে এদের ব্যবহার ও গঠনের দিক দিয়ে বেশ কিছু তারতম্য চোখে পড়ে।

যেমনঃ কোরের উপাদানের উপর ভিত্তি করে তা কয়েক প্রকার হয়ে থাকে।

১।এয়ার কোর ইন্দাক্তরঃ এই ধরণের ইন্ডাক্টরগুলি সাধারণত বেতার প্রকৌশলে বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ বেতার প্রকৌশলে সাধারণত কম মানের ইন্ডাক্ট্যান্স প্রয়োজন হয়। এই ধরণের ইন্ডাক্টর সমূহে কোর ম্যাটিরিয়াল হিসাবে থাকে বায়ু এবং ইহারা উচ্চ কোয়ালিটি ফ্যাক্টর বিশিষ্ট এবং সংখ্যা কম হয়ে থাকে।

২।আয়রন কোর ইন্ডাক্টরঃ আয়রন কোর ইন্দাক্তরসমুহে কোর হিসাবে আয়রন শীট ব্যবহার করা হয়। এগুলির ইন্ডাক্ট্যান্স বেশি থাকে। সাধারণত চোক কয়েল এবং ট্রান্সফর্মারে এগুলি ব্যবহার করা হয়।

৩।ফেরিক কোর ইন্ডাক্টরঃ এই ধরণের ইন্ডাক্টরে কোর হিসাবে ফেরিট রড ব্যবহার হয়। এগুলির ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এই ইন্ডাক্টরের ইন্ডাক্ট্যান্স বেশি থাকে।

গঠন আকৃতির উপর ভিত্তি করে তা কয়েক ধরণের হয়ে থাকে।

১।ববিন বেজড ইন্ডাক্টরঃ এই ধরণের ইন্ডাক্টরগুলি সিলিন্ড্রিক্যাল ববিন আকৃতির হয়ে থাকে। সাধারণত পিসিবিতে সারফেস মাউন্ট ইন্ডাক্টর তৈরিতে এগুলি ডিজাইন করা হয়। এছাড়া ট্রান্সফর্মারগুলি ববিন বেজড ইন্ডাক্টরের উদাহরণ।

২।টরিডাল ইন্ডাক্টরঃ এই ধরণের ইন্ডাক্টরে বৃত্তাকৃতির ফেরিট রডের ফর্মার উপর তার জড়িয়ে ইন্ডাক্টর তৈরি করা হয়। অর্থাৎ বৃত্তাকার ফেরিট রডের ফর্মা কোর হিসাবে ব্যবহার হয়।

ইন্ডাক্টরের সমবায়ঃ

অল্প যায়গায় বড় মানের ইন্ডাক্টর পেতে হলে তখন কুন্ডুলির ভিতরে ফেরোম্যাগ্নেটিক পদার্থের কোর ব্যাবহার করতে হয়। এটা তড়িতচৌম্বকক্ষেত্র কে শক্তিশালী করে।

ব্যবহারঃ

১।রেডিও রিসিভারে LC ট্যাংক সার্কিটে বা টিউনিং সার্কিটে।

২।রেজোন্যান্স সার্কিটি।

৩।ফিল্টার সার্কিটে।

৪।চোক কয়েল হিসাবে।

৫।ট্রান্সফর্মার, মটোর, জেনারেটরে।

৬।সলিনয়েড বা স্পীকার সিস্টেমে।

৭।ইলেক্ট্রিক্যাল ট্রান্সডিসার হিসাবে LVDT এলভিডিটিতে।

 

আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন।এর পরে যদি কারো  কিছু বলার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট এ জানাবেন। লেখার ভিতরে কোন ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাই সুস্থ থাকেন ভাল থাকেন।